প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন:- ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- talashbd2024@gmail.com
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম রাজধানীর যানজট ও রাস্তায় হকারদের অব্যবস্থাপনাকে বড় একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বিশেষভাবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে রিকশা এবং হকারের সংখ্যা বাড়ানোর ফলে ঢাকার সড়ক ব্যবস্থাপনা অনেকটাই অচল হয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি দেশের একটি সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার প্রদানকালে এ বিষয়ে তার অভিমত প্রকাশ করেন ডিএসসিসি প্রশাসক।
সাক্ষাৎকারে এক প্রশ্নের উত্তরে মো. আব্দুস সালাম বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ছিল এবং কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছিল না। দায়িত্ব গ্রহণের পর আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার ছিল এই সিটি করপোরেশনকে একটি কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা। জনগণের জন্য নাগরিক সেবাগুলো দ্রুত এবং যথাযথভাবে ঠিকভাবে নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।
এছাড়া, তিনি বলেন, নগরবাসীর মৌলিক নাগরিক সমস্যাগুলোর সমাধানে আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। বিশেষ করে মশার উপদ্রব, ড্রেনেজের সমস্যা, জলাবদ্ধতা, সড়কবাতি সহ নানা নাগরিক সমস্যা কমানোও আমাদের লক্ষ্য।
তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন দীর্ঘদিন ধরে অভিভাবকহীন ও অকার্যকর অবস্থায় ছিল। তবে এখন আমরা এটিকে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার চেষ্টা করছি। যেখানে সমস্যা হচ্ছে, কেন হচ্ছে এবং কীভাবে দ্রুত সমাধান করা যায়, এসব বিষয়ে আমরা নজর দিচ্ছি।
মো. আব্দুস সালাম আরও বলেন, সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে রাজধানী ঢাকার সব নাগরিক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। এজন্য নগরবাসীর দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে জনগণের অংশগ্রহণ এবং সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনকে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা, দ্রুত নাগরিক সেবা প্রদান করা, মশা, ড্রেনেজ, জলাবদ্ধতা এবং সড়কবাতির বিভিন্ন সমস্যা কমানো—এসব বিষয়কে আমরা প্রধান অগ্রাধিকারে ফেলেছি।
ডিএসসিসি প্রশাসক যোগ করেন, নাগরিকদের অভিযোগ শুনতে এলাকার ভিত্তিতে গণশুনানির ব্যবস্থা করেছি। যে কোনও নাগরিক সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে এসে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারেন। এছাড়া, একটি অ্যাপ চালু করেছি, যেটির মাধ্যমে নগরের যেকোনো সমস্যা খুব দ্রুত আমাদের জানানো যাবে। গণমাধ্যমে সমস্যা উদ্ভাষণের সঙ্গে সঙ্গেই আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করি।
এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী যে প্রত্যাশা করেছেন, সে অনুযায়ী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে ‘গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের। শহর পরিষ্কার রাখার জন্য নাগরিকদেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।
মো. আব্দুস সালাম বলেন, যানজট এবং রাস্তার হকারদের অব্যবস্থাপনা বড় একটি সমস্যা। বিশেষত, ৫ আগস্টের পর রিকশা এবং হকারের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে ঢাকা শহরের সড়ক ব্যবস্থাপনা অনেকটাই অচল হয়ে পড়েছে।
অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বলেন, হকারদের ব্যবস্থাপনার পর অটোরিকশাকে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে চারটি জোনে ভাগ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। যেখানে প্রতিটি জোনে অটোরিকশাগুলি নিজ নিজ জোনের মধ্যে চলাচল করবে।
সঙ্গে সঙ্গে গণপরিবহন ব্যবস্থাপনার বিষয়ে তিনি বলেন, গণপরিবহনকে একটি সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার দাবি তুলেছেন। গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলার অভাব ঘটছে, যা ঢাকার যানজটের অন্যতম কারণ। তাই যেখানে-সেখানে বাস পার্কিং করা এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করতে হবে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতির বিষয়ে মো. আব্দুস সালাম জানান, মশা সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা সম্ভব নয়। মশা নিয়ন্ত্রণের ওপর কাজ চলছে। তবে মশা নিয়ন্ত্রণের কাজে পরিবেশের ক্ষতি করা যাবে না। আমাদের কীটতত্ত্ববিদরা অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের অনুমতি দেয় না, কারণ এর ফলে পরিবেশ ও অন্যান্য উপকারী কীটপতঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, আমাদের এমনভাবে কাজ করতে হবে যাতে মশা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পরিবেশও সুরক্ষিত থাকে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেকটা কমেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আমরা কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি, ফলে মশার উপদ্রব আগের তুলনায় কমেছে। তবে শুধু সিটি করপোরেশনের পক্ষে মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, নাগরিকদের সচেতন হতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন