শনিবার, ২১শে ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ইং
০৫:৪৮ পি.এম
রমজান মাসে দীর্ঘ সময় রোজা রাখার ফলে শরীরে শক্তির অভাব, পানিশূন্যতা এবং দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। এই সময়ে খাদ্যতালিকায় বিটরুট অন্তর্ভুক্ত করলে বেশ কিছু উপকারিতা পাওয়া যায়।
রমজানে বিটরুটের উপকারিতা সম্পর্কে জানুন-
১. দ্রুত শক্তি প্রদান করে: বিটরুটে উপস্থিত প্রাকৃতিক চিনি এবং কার্বোহাইড্রেটগুলো ইফতারের সময় শক্তি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। রোজা ভাঙার পর শরীরের ক্লান্তি কমানোর জন্য এটি বেশ কার্যকর।
২. রক্তস্বল্পতা দূর করতে সহায়তা: বিটরুট আয়রন ও ফলেটের উৎস হিসেবে খুব উপকারী। এটি অ্যানিমিয়ায় ভুগছেন এমন মানুষের জন্য সাহায্যকারী হতে পারে। নিয়মিত ব্যবহারে রক্তে হেমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে সহায়তা করে।
৩. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে: বিটরুটে নাইট্রেট রয়েছে, যা রক্তনালী প্রশস্ত করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে। উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে এটি খাবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যুক্তিসঙ্গত।
৪. হজমের জন্য উপকারী: বিটরুট ফাইবারযুক্ত, যা কোষ্ঠকাঠিন্য হ্রাস করে এবং রমজানে বদহজমের সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে।
৫. পানিশূন্যতা হ্রাস করে: বিটরুটের উচ্চ পানির পরিমাণ শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। ইফতারে বিটরুটের সালাদ বা জুস পান করা শরীরের জন্য উপকারী।
৬. লিভারের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো: বিটরুটে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়তা করে, যা রমজানে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাওয়ার ক্ষতি কিছুটা কমাতে পারে।
কীভাবে খাবেন?
১. ইফতারে বিটরুট, শসা ও গাজর দিয়ে সালাদ তৈরি করুন।
২. বিটরুটের হালকা জুস (অতিরিক্ত চিনি ছাড়া) পান করুন।
৩. সেহরিতে সিদ্ধ বিটরুট ছোট পরিমাণে খান।
সতর্কতা
১. ডায়াবেটিস রোগী হলে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
২. কিডনির পাথরের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন (বিটরুট অক্সালেট সমৃদ্ধ)।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আবুল কালাম (২০) নামের এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন, যিনি চিরকূটে উল্লেখ করেন, ‘আমি সারাজীবন শুধু তোমাদের খেয়ে গেছি, কখনো তোমাদের খাওয়াতে পারি নাই’। তবে তার পরিবারের দাবি, প্রেমঘটিত কোনো কারণে এই ঘটনা ঘটতে পারে।
গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতের কিছু আগে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের সুইচ গেট এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আবুল কালাম ওই এলাকার গোলজার আলীর সন্তান।
স্থানীয় সূত্র মতে, আবুল কালাম রাতের এক সময় নিজের ঘরে গলায় ফাঁস দেন। যখন তার মা সেহরির সময় তাকে ডাকতে যান, তখন তিনি কোনো সাড়া পাননি। তখন দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলে, তিনি তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।
ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। চিরকুটে আবুল কালাম লিখেছেন, ‘প্রিয় পরিবার, আমি অনেক ভাগ্যবান যে তোমাদের মতো পরিবার পেয়েছি। কিন্তু মনে হচ্ছে, আমার মতো ছেলে পেয়ে তোমরা একটুও খুশি নও, কারণ আমি বেকার। আমি সারাজীবন তোমাদের খেয়ে গেছি, কখনো তোমাদের খাওয়াতে পারি নাই। তোমরা সবাই আমাকে মাফ করে দিও। আমার জন্য দোয়া করিও, আমি দোয়া করি, যেন আমার মতো ছেলে কোনো পরিবারে না আসে।’
যদিও চিরকুটে বেকারত্বজনিত হতাশার কথা বলা হয়েছে, নিহতের পরিবারের অন্য দাবি হলো, প্রেমঘটিত কারণে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
উলিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদ ইবনে সিদ্দিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় ৪০ লিটার দুধ দিয়ে গোসল করে অনলাইন জুয়া খেলা ছাড়লেন রাশেদ দাড়িয়া নামে এক যুবক। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজের আগে রাশেদ তার বাড়িতে বসে ৪০ লিটার দুধ দিয়ে গোসল করে নামাজ পড়তে যান।
এ রকম একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, দুধ রাখা অ্যালুমিনিয়ামের একটি বড় পাত্রে রাশেদ বসে আছেন। সেখানে মগ দিয়ে রাশেদের মাথায় দুধ ঢালছেন তার মা। এ দৃশ্য রাশেদ তার মোবাইল ফোনে ধারণ করে নিজের ফেসবুকে পোস্ট করার সাথে সাথেই ভাইরাল হয়ে যায়।
জানা গেছে, রাশেদ দাড়িয়া (৩৫) কোটালীপাড়া পৌরসভার ঘাঘর কান্দা গ্রামের হাচেন দাড়িয়ার ছেলে।
রাশেদ দাড়িয়া বলেন, আমি ২ বছর ধরে অনলাইনে জুয়া খেলি। এই জুয়া খেলায় এ পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ টাকার দেনা হয়েছি। এই দেনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের হতাশায় ভুগছি। পরিবারের লোকজনের পরামর্শে আমি কাজের জন্য কয়েক দিনের মধ্যে সৌদি আরব যাচ্ছি। তাই যাওয়ার আগে দুধ দিয়ে গোসল করে জুয়া খেলা ছাড়ার ঘোষণা দিলাম।
রাশেদ আরও বলেন, আমি সকল যুবক ভাইদের অনুরোধ করব, আপনারা কেউ সর্বনাশা জুয়া খেলবেন না। জুয়া খেলায় কেউই লাভবান হতে পারে না। সবাই ধ্বংস হয়। আপনারা যারা এই জুয়া খেলেন তারা এ পথ থেকে ফিরে আসুন।
এ দিকে রাশেদের এই জুয়া খেলা থেকে ফিরে আসার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন এলাকাবাসী। রাশেদের পাশের বাড়ির জলিল গাজী বলেন, রাশেদ জুয়া খেলে ধারদেনা হয়ে দীর্ঘ দিন ধরে হতাশায় ভুগছিলেন। এখন জুয়া ছেড়ে দিয়ে সৌদি যাচ্ছে। আমরা তার মঙ্গল কামনা করছি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তারিক মনজুর মন্তব্য করেছেন যে, জান ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলা ভাষার বিকৃতি ঘটানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, গণ–অভ্যুত্থানের পর নতুন কিছু প্রচলিত প্রশ্ন সামনে এসেছে। কিছু ব্যক্তি মুখের ভাষায় ‘ন্যায়বিচার’ শব্দের পরিবর্তে ‘ইনসাফ’, ‘ব্যবস্থা’র পরিবর্তে ‘বন্দোবস্ত’, ‘মীমাংসা’র বদলে ‘ফয়সালা’ ইত্যাদি ব্যবহার করতে শুরু করেছেন।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) অমর একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে বাংলা ভাষার প্রচার ও সংকট নিয়ে একটি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক মনজুর এসব কথা বলেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ ধরনের প্রয়োগ ভাষার চেহারায় পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা তৈরি করছে, যা নিয়ে অনেকেই সংশয় প্রকাশ করেছেন। বাংলা ভাষার ‘নিজস্ব’ শব্দ থাকা সত্ত্বেও কেন এ ধরনের আরোপণ করা হচ্ছে? এই নিয়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। জেন-জি প্রজন্মের এ প্রসঙ্গে বিশেষভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন, কারণ এটি বাংলা ভাষার ‘বিকৃতি’ ত্বরান্বিত করছে কিনা, সেই প্রশ্নও এখন উত্থাপিত হচ্ছে।
তারিক মনজুর বলেন, এসব প্রশ্নের সমাধান জানতে পাকিস্তান পর্বে ফিরে যাওয়া যেতে পারে। পূর্ব বাংলার সরকার ১৯৪৯ সালে ‘ইস্ট বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ কমিটি’ গঠন করে বিশেষ উদ্দেশ্যে; এই কমিটি প্রস্তাব করেছিল, নবগঠিত ‘মুসলিম’ রাষ্ট্রে বিশেষ কিছু ‘মুসলমানি’ শব্দ ব্যবহার করতে হবে। যখন ল্যাঙ্গুয়েজ কমিটির রিপোর্ট প্রকাশিত হয়, তখন মুনীর চৌধুরী এর বিরুদ্ধে আপত্তি জানান। হুমায়ুন আজাদও একে ‘বাঙালি জাতিসত্তাকে নিপীড়ন’র চক্রান্ত হিসেবে মনে করেন।
তিনি বলেন, যে কোনো ভাষায় একাধিক শব্দ একই অর্থ প্রকাশ করতে পারে। বাংলা ভাষায় 'মীমাংসা', 'নিষ্পত্তি', 'ফয়সালা' বা 'মিটমাট'—এসবে প্রায় একই অর্থ রয়েছে। এছাড়া ‘ন্যায়বিচার’, ‘ইনসাফ’, ‘জাস্টিস’ শব্দগুলি প্রায় একইভাবে ব্যবহার করা হয়। নতুনভাবে ‘বন্দোবস্ত’ শব্দটির প্রয়োগও ইতোমধ্যেই ছিল। নতুন শব্দ ব্যবহারের এই প্রবণতা ভাষার বিষয় না হয়ে বেশি জাতিগত ও রাজনৈতিক পরিচয়ের সাথে সম্পর্কিত। এটি প্রকৃত ভাষিক বিকৃতি নয়।
আপনারা আতঙ্কিত হওয়া প্রয়োজন নেই। তবে কৃত্রিম ও আরোপিত এই উদ্যোগ ভাষার বিকাশের প্রক্রিয়া মেনে চলে না। ভাষা শেষ পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের সম্মিলিত প্রয়োগের মাধ্যমে টিকে থাকে।
অবশেষে তিনি বলেন, বিশ্বের বড় ভাষাগুলোও ইংরেজির প্রভাবকে অস্বীকার করতে পারে না। বাংলাকে প্রযুক্তিমুখী করা জরুরি, ইংরেজিকে প্রতিপক্ষ বানানোর কোনো দরকার নেই।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিবিসি স্পোর্টস গতকাল এই খবরটি প্রকাশ করেছে যে দ্য হান্ড্রেডের নিলাম থেকে পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের কেনার সম্ভাবনা নেই আইপিএল-সংশ্লিষ্ট ৪টি দলের। এই ৪টি দলে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস, এমআই লন্ডন, সাউদার্ন ব্রেভ এবং সানরাইজার্স লিডস।
নাম দেখে স্পষ্ট বোঝা যায়, ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টসের সম্পর্ক লখনৌ সুপার জায়ান্টসের সঙ্গে, এমআই লন্ডনের সঙ্গে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এবং সানরাইজার্স লিডসের সঙ্গে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের সম্পর্ক রয়েছে। সাউদার্ন ব্রেভের প্রায় অর্ধেক মালিকানা দখল করেছে জিএমআর গ্রুপ, যারা আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালস দলের পরিচালনা করে। লিডসের একক মালিকানা সান গ্রুপের, যেখানে সঞ্জিব গোয়েঙ্কা গ্রুপের বিনিয়োগ ৭০ শতাংশ। এছাড়া, ব্রেভে জিএমআর ও এমআই লন্ডনে রিলায়ান্স গ্রুপের ৪৯ শতাংশ বিনিয়োগ রয়েছে।
পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের না কেনার বিষয়টি রাজনৈতিক কারণেই হতে পারে। ২০০৯ সাল থেকে ভারত আইপিএলে কোনো পাকিস্তানি খেলোয়াড়কে দলে অন্তর্ভুক্ত করছে না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, দ্য হান্ড্রেডের আইপিএল-সংশ্লিষ্ট দলগুলোর ক্ষেত্রেও কি এমনটি ঘটবে? এই প্রতিযোগিতায় খেলতে ৬০-এর অধিক পাকিস্তানি ক্রিকেটার নাম লেখিয়েছেন, যেখানে নিলাম অনুষ্ঠিত হবে ১১ ও ১২ মার্চ।
পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের প্রতি এমন আচরণের সমালোচনা করেছেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ক্রিকেটার মাইকেল ভন। তিনি এক পোস্টে উল্লেখ করেছেন, "এটি ইংল্যান্ডের জন্য দ্রুত সমাধানের প্রয়োজন।" এই ধরনের ঘটনা ঘটতে দেওয়ার কোনো কারণ নেই।
ভনের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন ইংল্যান্ডের বর্তমান অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। তিনি বলেন, "যদি প্রতিযোগিতায় কোনো পাকিস্তানি খেলোয়াড় নেওয়া না হয়, তাহলে এটি বেশ লজ্জাজনক হবে।" শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সুপার এইটের ম্যাচের প্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলনে ব্রুক বলেন, “আমার মনে হয় নিলামে প্রায় ৫০-৬০ জন খেলোয়াড়ের নাম রয়েছে, তাদের মধ্যে কয়েকজনকে না দেখতে পাওয়া সত্যিই দুঃখজনক হবে। সেখানে যথেষ্ট ভালো কিছু ক্রিকেটার আছেন, যারা মাঠে দর্শকদের আকর্ষণ করেন। পাকিস্তানের কয়েকজন খেলোয়াড়কে সেখানে না দেখতে পাওয়া অত্যন্ত হতাশার হবে, কারণ তারা টুর্নামেন্টকে আকর্ষণীয় করে তোলে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ