০৩:৩৪ পি.এম
ইরানের হামলায় বাহরাইনে মো. তারেক (৫৫) নামের চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার এক প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তার সহকর্মীরা জানান, বিস্ফোরণের সময় তিনি সেহেরি খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
সোমবার (২ মার্চ) বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা (বাহরাইন সময় রোববার রাত ২টা) বাহরাইনের আল হিদ ড্রাইডক এলাকায় আরব শিপবিল্ডিং অ্যান্ড রিপেয়ার ইয়ার্ডে হামলার শিকার হন তিনি।
মো. তারেক (৫৫) সন্দ্বীপের আজিমপুর এলাকার পাহাড়েরগো বাড়ির মৃত ছায়েদুল হকের পুত্র।
আরও পড়ুন: মির্জা আব্বাসের দাবি: সরকারকে ব্যর্থ দেখানোর চেষ্টা চলছে
নিহত মো. তারেকের জেঠাতো ভাই নুর হোসেন বেলাল মোবাইল ফোনে সময় সংবাদকে জানিয়েছেন, ‘শিপইয়ার্ডটি মিনহাজ সালমান এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটির পাশে রয়েছে। আমি কিছুটা দূরে কাজ করছিলাম, বিস্ফোরণের আওয়াজ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে জাহাজের ভেতরে ড্রোনের ভাঙা অংশ দেখতে পাই।’
তিনি যোগ করেন, ‘বিস্ফোরণের সময় মো. তারেক সহকর্মীদের সঙ্গে সেহেরি খাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।’
সহকর্মী ও স্বজনদের কাছ থেকে জানা যায়, বিস্ফোরণের সময় তারেক ‘স্টেনা ইম্পেরেটিভ’ নামে একটি জাহাজে মেরামতের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। হঠাৎ করে বিকট একটি বিস্ফোরণ হয়ে তার কর্মস্থল কেঁপে ওঠে। এ সময় ড্রোনের ভাঙা অংশ তার শরীরে আঘাত করে, যার কারণে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ঘটনায় আরও দুই থেকে তিনজন শ্রমিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সন্দ্বীপের মুছাপুর এলাকার নাজিম উদ্দিন (৪০) রয়েছেন। অন্যদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
নিহতের চাচাতো ভাই, রাউজান পূবালী ব্যাংকের ম্যানেজার মো. শামসুল ইসলাম বলেন, তার পরিবারের সদস্যদের কাছে মৃত্যুর সংবাদ এখনো পৌঁছায়নি; তারা মনে করছেন, তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আরও পড়ুন: ইরান বললো ইউরোপীয় কমিশনকে: ভণ্ডামি বন্ধ করুন
এ দিকে প্রবাসে তারেকের মর্মান্তিক মৃত্যুর সংবাদে সন্দ্বীপসহ স্বজনদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জানা গেছে, তারেক ২৭ বছর ধরে বাহরাইনে কর্মরত ছিলেন এবং দীর্ঘ প্রায় প্রবাসজীবনে তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন