১১:৫৩ পি.এম
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব সমাপ্ত হওয়ার পরও এক বছরের জন্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) নিরাপত্তা গ্রহণ করার বিষয়টি নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল প্রশ্ন তুলেছেন যে, 'ড. ইউনূস কি জনরোষের ভয়ে এক বছর পর্যন্ত এসএসএফ নিরাপত্তা নিয়েছেন?'
তিনি রবিবার (১ মার্চ) তার ইউটিউব চ্যানেল ‘কথা’-তে এই মন্তব্য করেন। মাসুদ কামাল উল্লেখ করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যত দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়। এর পর নবনির্বাচিত সরকার শপথ গ্রহণ এবং মন্ত্রিসভা গঠন সম্পন্ন করে। কিন্তু দায়িত্ব হস্তান্তরের পরও ড. ইউনূস প্রায় দুই সপ্তাহ সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’য় অবস্থান করেন এবং পরে গুলশানে তার ব্যক্তিগত বাসভবনে চলে যান।
মাসুদ কামাল বলেন, ২০০৬ সালের বিশেষ নিরাপত্তা অধ্যাদেশ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্ঠা দায়িত্ব শেষ হলে তিন মাস পর্যন্ত রাষ্ট্রের “অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি” (ভিআইপি) হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং এসএসএফসহ যথাযথ নিরাপত্তা সুবিধা পাওয়া যায়। তিনি জানান, চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি জারি হওয়া একটি সরকারি ঘোষণায় বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব ছাড়ার পর এক বছরের জন্য ড. ইউনূসকে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সমাজে দ্বিগুণ বৈষম্য ভোগে প্রতিবন্ধী নারী : এফএলসি
এই ঘোষণা রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে। মাসুদ কামাল তার বক্তৃতায় প্রশ্ন তুলেছেন যে, ‘আগের আইনে যেখানে তিন মাসের বিধান ছিল, সেখানে নতুন করে এক বছর করা হলো কেন? এটি কি সম্ভাব্য জনরোষ বা মব পরিস্থিতির আশঙ্কার কারণে নেওয়া সিদ্ধান্ত?’
তিনি দাবি করেন, দায়িত্বে থাকা সময়ে নেওয়া কিছু সিদ্ধান্তের কারণে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হতে পারে, তাই দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার চেষ্টা করা হয়েছে কি না সেটাই বর্তমানে আলোচনার বিষয়। সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা প্রয়োজন হলে, একই ধরনের সাবেক রাষ্ট্রীয় পদাধিকারীদের ক্ষেত্রেও একই সময়সীমা স্থাপন করা উচিত। অন্যদিকে, ড. ইউনূসের সমর্থকেরা যুক্তি দেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টির কারণে এক বছরের নিরাপত্তা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়।
মাসুদ কামাল এ ব্যাপারে বলেন, বিষয়টি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নিরাপত্তার নয়; বরং নীতিগত সমতার প্রশ্নও। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালনকারী কারও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি আইন প্রয়োগে সমতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: নার্সিং খাতে বাংলাদেশ-ফিলিপাইন সমঝোতা চুক্তি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন