০৯:৩৭ পি.এম
দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থায় ধূমপানের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। বিশেষ করে, পরিবহনের ভিতরে ধূমপান সংক্রান্ত অভিযোগ উঠলে ৯৩ শতাংশ পরিবহনকর্মী যেমন চালক বা হেলপারদের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যা তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে একটি বড় ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই তথ্য উঠে এসেছে। ডেভলপমেন্ট অ্যাকটিভিটিস অব সোসাইটি (ডাস) ও বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোট (বাটা)-এর যৌথ উদ্যোগে 'গণপরিবহনে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের অবস্থা বিষয়ক কমপ্লায়েন্স মনিটরিং সার্ভের ফলাফল প্রকাশ' শীর্ষক অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ডাসের টিমলিড আমিনুল ইসলাম বকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন সাবেক সিনিয়র সচিব হামিদুর রহমান খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব হোসেন আলী খোন্দকার, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও নীতি বিশ্লেষক সৈয়দ মাহাবুবুল আলম তাহিন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন, নাটাবের প্রকল্প পরিচালক ফিরোজ আহমেদ, বিইআর-এর প্রকল্প পরিচালক হামিদুল ইসলাম হিল্লোল, এইড ফাউন্ডেশনের সিনিয়র প্রকল্প কর্মকর্তা আবু নাসের অনিক, ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের সিনিয়র প্রকল্প কর্মকর্তা সামিউল হাসান সজীব প্রমুখ।
আরও পড়ুন: মির্জা আব্বাসের দাবি: সরকারকে ব্যর্থ দেখানোর চেষ্টা চলছে
সভায় ডাসের কনসালটেন্ট আসরার হাবিব নিপু গবেষণার তথ্য উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ অনুযায়ী গণপরিবহন, বাস টার্মিনাল ও নদীবন্দর ধূমপানমুক্ত ঘোষিত হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এখনও কিছু ঘাটতি রয়েছে। ফলাফলে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেলেও টার্মিনাল এলাকার আইন প্রয়োগে দুর্বলতা বিদ্যমান। তবে যাত্রীদের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বেসলাইন জরিপে যাত্রীদের মধ্যে ধূমপায়ীর হার ছিল ৪৩.৯৭ শতাংশ, যা বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে ৩৭.৯৪ শতাংশে। ৮০ শতাংশের বেশি যাত্রী মনে করছেন, গত এক বছরে যানবাহনের ভিতরে ধূমপান কমেছে এবং ৯৭ শতাংশ যাত্রী ধূমপানমুক্ত গণপরিবহনের পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। তবে ৭১ শতাংশ যাত্রী জানিয়েছেন, টার্মিনাল এলাকার ধূমপানের পরিস্থিতি প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। ৫৪ শতাংশ যাত্রী ধূমপায়ীদের মুখোমুখি হতে সংকোচ ও সম্ভাব্য বিরোধের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তবে আইন লঙ্ঘনের ব্যাপারে অভিযোগ জানালে ৯৩ শতাংশ ক্ষেত্রে পরিবহনকর্মীরা পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে যাত্রীদের মন্তব্য রয়েছে।
গবেষণায় উঠে এসেছে যে, দুর্বল আন্তঃসংস্থা সমন্বয়, অস্পষ্ট প্রয়োগ নির্দেশনা, জনসমাগমস্থলে ধূমপানকে সামাজিকভাবে স্বাভাবিক মনে করা, জনবল ও জরিমানা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ইত্যাদি আইন বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করছে। এসব সমস্যার সমাধান করার জন্য নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও যৌথ অভিযান জোরদার করার, দৃষ্টান্তমূলক জরিমানা ধারাবাহিকভাবে প্রয়োগের, চালক ও কন্ডাক্টরের দায়িত্ব নির্দিষ্টকরণ, যানবাহন লাইসেন্সিং ও পরিদর্শনে তামাক নিয়ন্ত্রণ শর্ত যুক্ত করা, যানবাহন ও টার্মিনালে স্থায়ী সাইনেজ স্থাপন করা, টার্মিনাল এলাকায় তামাক বিক্রয় ও ট্যাপস নিষিদ্ধ করার, পরিবহনকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করার সুপারিশও পেশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন