শনিবার, ২৮শে ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ইং
০১:১৯ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল সমন্বিতভাবে ইরানে একটি সামরিক হামলা পরিচালনা করেছে। টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনের বরাতে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, ইসরাইলের নিরাপত্তা সূত্র এই খবর নিশ্চিত করেছে।
ইসরাইলের চ্যানেল ১২-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই হামলাটি ইরানে একটি যৌথ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল অভিযানের অংশ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হামলার অন্যতম লক্ষ্য হলো ইরানের প্রেসিডেন্ট ভবন।
ইরানি বিরোধী সূত্রের ডেটা অনুযায়ী, ইরানি নেতাদের আবাসস্থলও হামলার লক্ষ্যবস্তু। এছাড়াও, এই হামলা ইরানের সেই স্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নিয়েছে, যেখান থেকে ইসরাইলের উপরে আক্রমণ করা হতে পারে।
এখন পর্যন্ত ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া যায়নি, তবে সাধারণ জনগণকে নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ পূর্বে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে তারা আগাম হামলা চালিয়েছে। এই হামলাকে ইসরাইল ‘আগাম প্রতিরোধমূলক হামলা’ নামে অভিহিত করেছে।
তিনি আরও দাবি করেছেন যে, ইসরাইল এই হামলা চালিয়েছিল যাতে তাদের রাষ্ট্রের উপর ঝুঁকি কমানো যায়।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আগে ইরান ইস্যু নিয়ে আলোচনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, জেনেভায় তৃতীয় দফা আলোচনা শেষ হয়ে ইরানের পারমাণবিক আলোচনা নিয়ে তার আচরণে তিনি ‘সন্তুষ্ট নন’।
জেনেভায় ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক কর্মসূচির আলোচনা কিছু অগ্রগতি হলেও, চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তেহরান প্রয়োজনীয় ছাড় দিতে রাজি না হওয়ায় ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
হোয়াইট হাউসের বাইরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, যুক্তরাষ্ট্রের দাবির প্রেক্ষিতে ইরান এখনও পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ছাড়ার ব্যাপারে রাজি নয়। সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে চাইলে কখনও কখনও তা করতে হয়।
ট্রাম্প বলেছিলেন, আমরা এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাইনি। যে ভাবে তারা আলোচনা করছে, সেটি নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমাদের সামনে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী রয়েছে—এর কাছাকাছি কেউ নেই। আমি চাই না এটি ব্যবহার করতে, কিন্তু কিছু পরিস্থিতিতে তা ব্যবহারে বাধ্য হতে হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইরানে হামলার কার্যক্রম শুরু করেছে ইসরাইল। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে হামলা শুরু করার খবর এসেছে। এ হামলার মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কার্যালয়ের সামনে একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে, তিনি নিরাপদ স্থানে রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে রয়টার্সের প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদন অনুসারে, শনিবার সকালে ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে। ইসরাইল জরুরি অবস্থা জারি করার পর তেহরানে বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা যায়।
রয়টার্সের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তেহরানে অবস্থান করছেন না এবং তাঁকে ‘নিরাপদ স্থানে’ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ইরানে হামলার পর ইসরাইল দেশের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। সমস্ত বেসামরিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। টাইমস অব ইসরাইলের খবর অনুযায়ী, দেশের পরিবহন মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত জনসাধারণকে বিমানবন্দরে না আসার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। বিদেশে থাকা যাত্রীদের আকাশসীমা পুনরায় খুললে ফ্লাইটের সময়সূচি সম্পর্কে মিডিয়া ও তাদের বিমান সংস্থার মাধ্যমে আপডেট পেতে বলা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, বিদেশে অবস্থানকারী ইসরাইলিদের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের নির্দেশনা ও সুপারিশ অনুসরণ করার অনুরোধ করা হচ্ছে। ‘যদি নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূল হয়, তবে আকাশসীমা পুনরায় খুলে দেওয়া হবে এবং ইসরাইলের মধ্য দিয়ে যাওয়া ও আগত ফ্লাইট পুনরায় চালু হবে। নতুন ফ্লাইটের বিষয়ে ২৪ ঘণ্টা আগে নোটিশ দেয়া হবে,’ জানানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে সামরিক হামলা শুরু করেছে। এর জবাবে তেহরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কায় ইসরাইল সর্বোচ্চ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি, কাতারে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
আল জাজিরার একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দূতাবাস নাগরিকদের নির্দেশ দিয়েছে পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য।
শনিবার, যখন ইরানের বিরুদ্ধে এই সামরিক অভিযানের সূচনা হলো, ঠিক তখনই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
ইসরাইলের চ্যানেল ১২-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানে চলমান সামরিক হামলাটি একটি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ অভিযান। রিপোর্টে বলা হয়েছে, হামলার প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের প্রেসিডেন্ট ভবন।
ইরানি বিরোধী সূত্রগুলোর তথ্য অনুসারে, ইরানি নেতাদের বাসভবনও হামলার লক্ষ্যবস্তুতে রয়েছে। এছাড়া ইরানের সেই স্থাপনাগুলোতেও আঘাত হানার চেষ্টা করা হচ্ছে, যেখান থেকে ইসরাইলের ওপর আক্রমণ চালানো হতে পারে।
এখন পর্যন্ত ইসরাইলের দিকে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি, তবে সাধারণ জনগণকে নিরাপদে থাকার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিলে উপস্থিত হবেন।
শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কর্তৃক আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি অংশগ্রহণ করবেন।
বিএনপির মিডিয়া শাখা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তেজগাঁও কার্যালয়ে অফিস কর্মীদের এবং অধীনস্থ দপ্তরের প্রধানদের সাথে একটি মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করবেন। এরপর বিকেলের দিকে তিনি জামায়াতের ইফতার মাহফিলে যোগ দেবেন।
এর আগে, ২৫ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম ইফতার মাহফিলের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সম্মতি দিয়েছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পরমাণু প্রকল্প নিয়ে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে ইরানে চলে যাওয়ার জন্য দেশটির নাগরিকদের মধ্যে কার্যত হিড়িকে দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতির ভীতিকর অর্থে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, কানাডা, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, ভারত এবং চীনের মতো ১৫টিরও বেশি দেশ তাদের নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে।
একই সময়ে এ দেশগুলো তাদের নাগরিকদের জন্য ইরানে ভ্রমণের প্রেক্ষিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বিস্ফোরক মন্তব্যের পর থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়, যা মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য একটি বৃহৎ সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপের বিষয়টি চালু ছিল। গতকাল ২৭ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় অনুষ্ঠিত পঞ্চম দফা সংলাপের সমাপ্তির মাধ্যমে এই দীর্ঘ আলোচনা শেষ হয়েছে। তবে ওই আলোচনাগুলো থেকে বিশেষ কিছু ফল আসেনি, ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি পরিষ্কারভাবে জানান, ৫ দফা সংলাপের ফল নিয়ে তিনি মোটেই সন্তুষ্ট নন। মূলত, ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত এবং বিতর্কিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পের ব্যাপারে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো সম্মতি গড়ে উঠেনি, যার ফলে কূটনৈতিক আলোচনা কোনো ফল না পাওয়ার দিকে চলে গেছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, পরমাণু বিষয়ক কিছু ক্ষুদ্র বিষয় নিয়ে সমঝোতা গড়ে উঠলেও মূল সমস্যাগুলো এখনো পূর্বাবস্থায় রয়ে গেছে। একদিকে, জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমা ও ইসরায়েলে বিপুলসংখ্যক যুদ্ধজাহাজ, বিমানবাহী রণতরি এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ইউএসএর তরফ থেকে মোতায়েন করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যদি ইরান তাদের শর্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হয়, তাহলে যেকোনো সময় দেশটিতে সামরিক হামলা চালানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এই সামরিক প্রস্তুতির কারণে বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
এসব পরিস্থিতির কারণে ইরানের আকাশপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে তেহরানের জন্য কোন দেশ থেকেই সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব নয়; ফলে ভ্রমণকারীদের তুরস্কের ইস্তাম্বুল হয়ে যাতায়াত করতে হয়।
এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি জানায়, যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কারণে তেহরান-ইস্তাম্বুল রুটের সকল ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় ইরানে আট নাগরিকদের ফেরত আনা এবং দেশটিতে যাওয়ার প্রত্যাশায় থাকা যাত্রীদের চরম অনুসন্ধানের মুখে পড়তে হচ্ছে। পরবর্তী সরকারি আদেশ না আসা পর্যন্ত উক্ত ফ্লাইটের চলাচল বন্ধ থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ