১২:৩৭ পি.এম
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক ঘটনার প্রভাব এখন আয়ারল্যান্ডে স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। প্রতিদিনই জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমদানি নির্ভর এই দেশটি এতে প্রভাবিত হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও শেয়ারবাজারেও। এই কারণে স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
গত সপ্তাহে, আয়ারল্যান্ডে ডিজেল ও পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি গড়ে ছিল ১ ইউরো ৬৮ সেন্ট থেকে ১ ইউরো ৭৩ সেন্টের মধ্যে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে, শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর, পরদিন শনিবার দাম বেড়ে দাঁড়ায় ১ ইউরো ৭৫ সেন্টে। রবিবার, সেই দাম ১ ইউরো ৭৮ সেন্টে ছাড়িয়ে যায়।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, যদি এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি অবশ্যম্ভাবী। এটা পরিবারগুলোর বাজেটে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। উল্লেখ্য যে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কয়েকগুণ বেড়ে গেছে, যা এখনো স্বাভাবিক হয়নি। নতুন যুদ্ধ পরিস্থিতি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে জীবনযাত্রার খরচও বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন: এনআইডি চাওয়ায় ব্যাংকারের বিরুদ্ধে মামলা, সাংবাদিকও আসামি
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ইকোনমির মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে মুদ্রাস্ফীতি ০.৫ থেকে ০.৭ শতাংশের মধ্যে বাড়তে পারে।
আয়ারল্যান্ডে ব্যবহৃত সকল ধরনের তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের জন্য দেশটি আমদানি নির্ভর। প্রতি বছর, দেশটি গড়ে প্রায় ৫৮ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আমদানি করে। তাই বৈশ্বিক বাজারের সামান্য অস্থিরতাও স্থানীয় বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রবাসী বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, আয়ারল্যান্ডে প্রতিদিন জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা তাদের জন্য উদ্বেগের কারণ। এই ভাবে দাম বাড়তে থাকলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়বে। ফলে প্রবাসী ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে।
বিশ্লেষক এবং সাধারণ মানুষদের মন্তব্য, যুদ্ধ কখনই শান্তি নিয়ে আসে না। কোনো দেশের অবকাঠামো, সম্পদ ও অর্থনীতি ধ্বংস হলে, তার প্রভাব বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। তাই শুধু আয়ারল্যান্ড নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির স্বার্থে দ্রুত যুদ্ধ বন্ধের দাবি উঠছে।
আরও পড়ুন: ইরান হাইপারসনিকসহ তিন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন