ঢাকা মঙ্গলবার, ১০ই মার্চ, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৫শে ফাল্গুন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে রমজান, ১৪৪৭হিজরী
মঙ্গলবার, ১০ই মার্চ, ২০২৬ইং ২৫শে ফাল্গুন, ১৪৩২বাং

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় আয়ারল্যান্ডে তেলের বাজারে চাপ


মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় আয়ারল্যান্ডে তেলের বাজারে চাপ

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক ঘটনার প্রভাব এখন আয়ারল্যান্ডে স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। প্রতিদিনই জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমদানি নির্ভর এই দেশটি এতে প্রভাবিত হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও শেয়ারবাজারেও। এই কারণে স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

গত সপ্তাহে, আয়ারল্যান্ডে ডিজেল ও পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি গড়ে ছিল ১ ইউরো ৬৮ সেন্ট থেকে ১ ইউরো ৭৩ সেন্টের মধ্যে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে, শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর, পরদিন শনিবার দাম বেড়ে দাঁড়ায় ১ ইউরো ৭৫ সেন্টে। রবিবার, সেই দাম ১ ইউরো ৭৮ সেন্টে ছাড়িয়ে যায়।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, যদি এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি অবশ্যম্ভাবী। এটা পরিবারগুলোর বাজেটে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। উল্লেখ্য যে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কয়েকগুণ বেড়ে গেছে, যা এখনো স্বাভাবিক হয়নি। নতুন যুদ্ধ পরিস্থিতি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে জীবনযাত্রার খরচও বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন: এনআইডি চাওয়ায় ব্যাংকারের বিরুদ্ধে মামলা, সাংবাদিকও আসামি

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ইকোনমির মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে মুদ্রাস্ফীতি ০.৫ থেকে ০.৭ শতাংশের মধ্যে বাড়তে পারে।

আয়ারল্যান্ডে ব্যবহৃত সকল ধরনের তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের জন্য দেশটি আমদানি নির্ভর। প্রতি বছর, দেশটি গড়ে প্রায় ৫৮ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আমদানি করে। তাই বৈশ্বিক বাজারের সামান্য অস্থিরতাও স্থানীয় বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রবাসী বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, আয়ারল্যান্ডে প্রতিদিন জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা তাদের জন্য উদ্বেগের কারণ। এই ভাবে দাম বাড়তে থাকলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়বে। ফলে প্রবাসী ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে।

বিশ্লেষক এবং সাধারণ মানুষদের মন্তব্য, যুদ্ধ কখনই শান্তি নিয়ে আসে না। কোনো দেশের অবকাঠামো, সম্পদ ও অর্থনীতি ধ্বংস হলে, তার প্রভাব বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। তাই শুধু আয়ারল্যান্ড নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির স্বার্থে দ্রুত যুদ্ধ বন্ধের দাবি উঠছে।

আরও পড়ুন: ইরান হাইপারসনিকসহ তিন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আরামকোতে হামলা নিয়ে নতুন বিতর্ক, ইরানের ঘাড়ে দোষ চাপানোর অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই মার্চ, ২০২৬ ইং

১২:৩৯ পি.এম


আরামকোতে হামলা নিয়ে নতুন বিতর্ক, ইরানের ঘাড়ে দোষ চাপানোর অভিযোগ

রিয়াদের আরামকোতে হামলা একটি ইসরাইলি ‘ফলস ফ্লাগ’ (মিথ্যা পতাকা অভিযান) এবং ইসরাইলের উদ্দেশ্য হলো ইরানে আক্রমণের দায় থেকে আঞ্চলিক দেশগুলোকে বিভ্রান্ত করা। তাসনিম নিউজের সঙ্গে যোগাযোগ করে, একটি সামরিক সূত্র এই তথ্য জানায়।

ওয়াকিবহাল সূত্র জানায়, ‘ইরান স্পষ্টভাবে বলেছেন যে তারা এই অঞ্চলে সকল আমেরিকান ও ইসরাইলি সম্পদ ও স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে এবং ইতোমধ্যেই তাদের অনেকগুলোতে হামলা করেছে। তবে আরামকো স্থাপনাগুলো এখনও পর্যন্ত ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়নি।’

সূত্রটি আরও উল্লেখ করেছে, ‘গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরও ইসরাইলের পরবর্তী হামলার লক্ষ্য হতে পারে এবং এই শাসকগোষ্ঠী এটি আক্রমণ করার পরিকল্পনা করছে।’

পূর্বে রিপোর্ট করা হয় যে, ইরানের ড্রোন সৌদি আরবের আরামকোর তেল শোধনাগারে হামলা করেছে। এই হামলার পরে সৌদি আরামকো রাস তানুরা রিফাইনারির কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সোমবার (২ মার্চ) হামলাটি সংঘটিত হয়।

হামলার পর স্থাপনাতে আগুন ধরে যায়। তবে আগুন ছিল সীমিত। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

রাস তানুরা মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম তেল শোধনাগার, যা সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলে অবস্থিত। জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আশংকা বেড়ে যায়।

মিথ্যা পতাকা বা হামলা এমন একটি গোপন অভিযান যা প্রকৃত দায়িত্বরত পক্ষ বা সরকার না করে অন্য কোন পক্ষ (অধিকাংশ ক্ষেত্রে শত্রু) করায় দায় চাপানো হয়। এর উদ্দেশ্য হলো অন্যের ওপর দোষ চাপিয়ে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করা কিংবা সামরিক পদক্ষেপের অজুহাত তৈরি করা। এই ধরনের অভিযানের ফলে প্রকৃত হামলাকারী আড়ালে থেকেই যায়।

সূত্র: তাসনিম নিউজ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলায় আরবদের অংশগ্রহণ চাওয়ার দাবি তুললেন : ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই মার্চ, ২০২৬ ইং

১২:৪১ পি.এম


ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলায় আরবদের অংশগ্রহণ চাওয়ার দাবি তুললেন : ট্রাম্প

যেসব আরব দেশ প্রথমে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানসমূহে অংশগ্রহণে অনীহা প্রকাশ করেছিল, তারা এখন যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী হামলায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে চাপ প্রয়োগ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মতে, ইরান মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে, যার জন্য এই নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সোমবার সিএনএনকে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, বেশ কিছু আরব দেশ ইরানের আক্রমণের শিকার হয়ে তাদের অবস্থান পরিবর্তনে বাধ্য হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা অবাক হয়েছিলাম। তারা আগ্রাসীভাবে লড়াই করছে। সাধারণত তাদের হামলার সংখ্যা খুব বেশি থাকার কথা নয়, কিন্তু বর্তমানে তারা সম্পূর্ণ আক্রমণাত্মক।’

সপ্তাহের শুরুতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর তেহরানের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তারা তেল আবিব এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

পরে দিনগুলোতে ইরান বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালায়।

হোয়াইট হাউসে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হওয়ার পর ট্রাম্প বলেন যে, প্রাথমিকভাবে আন্দাজ করা হচ্ছে এই অভিযান চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে। তার দাবি, প্রয়োজনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধিক সময় ধরে অভিযান চালানোর ক্ষমতা রয়েছে।

এদিকে, সোমবার, যুক্তরাষ্ট্র ছয়টি আরব দেশের সহযোগিতায় একটি শক্তিশালী যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে যেখানে তারা এই অঞ্চলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাগুলোকে বেপরোয়া এবং অযৌক্তিক হিসেবে নিন্দা জানাচ্ছে।

সাতটি দেশ ইরানের আচরণকে ‘একটি বিপজ্জনক উত্তেজনার বৃদ্ধির’ মধ্যে বর্ণনা করেছে, যা একাধিক রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি হুমকি। তারা আরও বলছে যে, বেসামরিক নাগরিকদের এবং জাহাজতে যুদ্ধরত নয় এমন দেশগুলোর ওপর হামলা চালানো বেপরোয়া ও অস্থিতিশীল আচরণ।

শনিবার, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি সেসহ বেশ কয়েকজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। এই যৌথ অভিযানে ইরানে মৃতের সংখ্যা ৫০০ জন ছাড়িয়ে গেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতের হোলি পালনে বেনাপোল বন্দরে বাণিজ্য -কার্যক্রম -বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই মার্চ, ২০২৬ ইং

১২:৪৩ পি.এম


ভারতের হোলি পালনে বেনাপোল বন্দরে বাণিজ্য -কার্যক্রম -বন্ধ

হোলি উৎসবের কারণে ভারতে সরকারি ছুটির জন্য মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বেনাপোল স্থলবন্দরে দুই দেশের মধ্যে আমদানি ও রফতানি কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। যাহোক, বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও এই পথে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত আগের মতোই স্বাভাবিক।

বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানিয়েছেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হোলি উপলক্ষে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ রাখার বিষয়টি ভারতীয় ব্যবসায়ীরা তাদেরকে জানিয়েছেন। এর ফলে আমদানি বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটেছে।

বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামিম হোসেন জানিয়েছেন, ভারত থেকে আমদানি কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও বেনাপোল বন্দরে পণ্য খালাসের কার্যক্রম এবং পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত অব্যাহত আছে। বুধবার সকাল থেকে ছুটি শেষে ভারতীয়দের সঙ্গে আমদানি ও রফতানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।

অন্যদিকে, বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় দুই দেশের বন্দরে পণ্যজট সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে এই বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ভারত থেকে প্রায় ৬০০ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের পণ্য নিয়ে আসে ও রফতানি হয়।

এছাড়া চিকিৎসা এবং ব্যবসার বিভিন্ন প্রয়োজনেই দেড় হাজারেরও বেশি পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত করে। এর ফলে বাণিজ্য খাত থেকে প্রায় ১০ কোটি এবং ভ্রমণ খাত থেকে ২০ লাখ টাকার মতো রাজস্ব আহরণ হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৈকতে কচ্ছপের মৃ-ত-দে-হে-র বৃদ্ধি বাড়ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই মার্চ, ২০২৬ ইং

১২:৪৪ পি.এম


সৈকতে কচ্ছপের মৃ-ত-দে-হে-র  বৃদ্ধি বাড়ছে

কক্সবাজার সমুদ্রের উপকূল বরাবর সামুদ্রিক কচ্ছপের মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত সপ্তাহে সাড়ে ৩ কিলোমিটার উপকূলে ২০টিরও বেশি মৃত মা কচ্ছপের সন্ধান পাওয়া গেছে, যাদের প্রত্যেকটির পেটে ডিম ছিল। কচ্ছপের মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিবছর বাড়াতে গিয়ে পরিবেশ অধিদফতর অনেক উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।

কক্সবাজার সোনারপাড়া সমুদ্র উপকূলে সরেজমিনে দেখা গেছে, বালিয়াড়িতে মৃত মা কচ্ছপ পড়ে আছে। তাদের পেটের মধ্যে রয়েছে ডিম এবং শরীরে রয়েছে আঘাতের চিহ্ন। পাশাপাশি পেচারদ্বীপ উপকূলেও মৃত কচ্ছপের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলেরা, ট্রলিং জাহাজ, বড় ট্রলার এবং অবৈধ জাল কচ্ছপের মৃত্যুর জন্য দায়ী। সোনারপাড়ার জেলে রশিদ বলেন, "যখন কচ্ছপ জালে আটকাতে গেলে, তখন জেলেরা তাদের পাখা কেটে দেয়, ফলে কচ্ছপ দুর্বল হয়ে কূলে এসে মারা যায়।" এছাড়া বড় ট্রলার এবং ট্রলিং জাহাজের আঘাতেও কচ্ছপের মৃত্যু ঘটে।

আরেক জেলে সৈয়দ উল্লাহ জানান, সমুদ্রের মাঝে প্রায়ই কচ্ছপ মৃত অবস্থায় ভেসে থাকে। গতকালও ১০-১২টি মৃত কচ্ছপ পানিতে ভেসে ছিল। তিনি জানান, "মাছ ধরার জালের কারণে কচ্ছপ মারা যায়। বড় ট্রলারের জালে আটকে তারা শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে না পেরে মারা যায়।" গত এক সপ্তাহে তিনি শতাধিক মৃত কচ্ছপ সাগরে ভাসতে দেখেছেন।

সোনারপাড়া সমুদ্র উপকূলে কচ্ছপ রক্ষণাবেক্ষণ ও ডিম সংরক্ষণে কাজ করছেন নবী হোসেন গত চার বছর ধরে। তিনি বলেন, "এক সপ্তাহে প্রায় ২০টি মৃত কচ্ছপ পেয়েছি। আমি এগুলো নিজ উদ্যোগে মাটিতে চাপা দিয়েছি।" তিনি যোগ করেন যে এই অবস্থা চলতে থাকলে স্থানীয় শিশুদের জন্য খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হবে।

কচ্ছপের মৃত্যুর এ মিছিল নিয়ে স্থানীয় পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গবেষকদের মতে, কচ্ছপের রক্ষণাবেক্ষণ ও সচেতনতার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

রেডিয়েন্ট রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন সেন্টারের গবেষক মো. আব্দুল কাইয়ুম জানান, "গত দুই মাসে প্রায় ৬০-৭০টি মৃত কচ্ছপ উপকূলে ভেসে এসেছে।" বিশেষ করে সোনাদিয়া দ্বীপ, কক্সবাজার, টেকনাফ পেনিনসুলা ও সেন্ট মার্টিনের কাছে অবস্থা বেশি উদ্বেগজনক।

অন্যদিকে, তিনি উল্লেখ করেন যে, কচ্ছপের ডিম পাড়ার সময় তারা জালে আটকে যায় বা বড় ট্রলারের কারণে আহত হয়। অনেক সময় জাল কাটলেও কচ্ছপের রক্তক্ষরণ বা আঘাতের কারণে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। গত বছরও ২০০-এরও বেশি কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়েছিল। তাই সরকারী বিধিনিষেধ, মোবাইল কোর্ট ও জনসচেতনতার প্রয়োজনীয়তা বোঝাপড়া খুব গুরুত্বপূর্ণ।

অতিরিক্ত ব্রিফিংয়ে মো. আব্দুল কাইয়ুম বলেন, "যোগাযোগের মাধ্যমে জেলেদের বোঝাতে হবে যে, সামুদ্রিক কচ্ছপের টিকে থাকা জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক।" কচ্ছপ রক্ষা করা গেলে জেলিফিশের পরিমাণ কমবে, মাছের উৎপাদন বাড়বে ফলে জেলেদের লাভ হবে। পরিবেশকর্মী, গবেষক এবং সংশ্লিষ্টদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সংখ্যা কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

পরিবেশ অধিদফতরের কক্সবাজার অফিসের উপ-পরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, "সামুদ্রিক কচ্ছপ ocean এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্যর জন্য অপরিহার্য। তাই সংরক্ষণে সচেতনতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।"

পূর্ববর্তী বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, ২০২৫ সালের তুলনায় কচ্ছপ মৃত্যুর সংখ্যা ৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ওশেনোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট বলছে, প্রতি বছর মৃত কচ্ছপের সংখ্যা বাড়ছে, যা চিন্তার বিষয়।

খন্দকার মাহমুদ পাশা জানান, সোনাদিয়া দ্বীপে একটি সংরক্ষণ প্রকল্প চলছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে হ্যাচারি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। গার্ড নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। দক্ষিণপাড়া, পশ্চিমপাড়া ও পূর্বপাড়ায় অন্তত দুটি স্থানে নিরাপত্তা এবং ডিম সংরক্ষণ ও ফুটানোর ব্যবস্থা থাকবে। সম্মিলিত উদ্যোগ, কঠোর নজরদারি এবং সচেতনতা বৃদ্ধি কচ্ছপ সংরক্ষণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে রমজান, ১৪৪৭হিঃ
ফজর ০৪:৫৭
জোহর ১২:১০
আসর ০৪:২৬
মাগরিব ০৬:০৫
ইশা ০৭:১৬
সূর্যোদয় : ০৬:১৩ সূর্যাস্ত : ০৬:০৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%