১০:১৫ পি.এম
দক্ষিণ এশিয়ার মঞ্চে বাংলাদেশের মেয়েদের ক্ষমতা কম নয়, তারা দুইবারের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এশিয়ার বড় মঞ্চটিতে, যেখানে একেবারেই ভিন্ন প্রতিযোগিতা রয়েছে, সেখানে খেলতে হবে শক্তিশালী দলদের যেমন চীন, উত্তর কোরিয়া, এবং উজবেকিস্তান। চাইনিজ দলটি টুর্নামেন্টের রেকর্ড ৯ বার চ্যাম্পিয়ন হয়ে এসেছে, তাই বাংলাদেশ কতটা লড়াইে পারবে, সেটা অজানা ছিল। তবে, ঋতুপর্ণা এবং মনিকা এমন কিছু করে দেখিয়েছেন যা পুরো পরিবেশ বদলে দিয়েছে। তারা প্রমাণ করেছে যে তারা দক্ষিণ এশিয়াতে নয়, বরং এশিয়ান মঞ্চেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সক্ষম। বাংলাদেশের জন্য প্রথমবার এশিয়ান কাপে খেলা এবং উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে মোট গোল করার পর আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নু অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মেয়েদের খেলা দেখে আমি খুব আপ্লুত, হেড টু হেড খেলেছে তারা।’
সাংখ্যিক দিক থেকে বাংলাদেশের চেয়ে চীনের অবস্থান অনেক শীর্ষে। বাংলাদেশের এশিয়ান কাপের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে আগে থেকেই অনুমান করা যাচ্ছিল যে লড়াইটা কঠিন হবে। তবে, ঋতু-মনিকারা তাদের লড়াইয়ের দক্ষতায় সবাইকে অবাক করেছেন।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) নারী এশিয়ান কাপের প্রথম ম্যাচে চাইনিজ দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ ২-০ গোলে হেরেছে, কিন্তু সেখানেও ঋতুপর্ণা, মারিয়া এবং মনিকার অবিস্মরণীয় লড়াই ছিল।
আরও পড়ুন: ইরান বললো ইউরোপীয় কমিশনকে: ভণ্ডামি বন্ধ করুন
যারা ৯ বার নারী এশিয়ান কাপ জিতেছে এবং বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে, সেই দলটি ম্যাচ শেষে বাংলাদেশে এসে কুর্নিশ করেছে। এখানেই বাংলার মেয়েরা হারলেও জয়ী হয়ে রইল।
এদিকে, বাংলাদেশের মেয়েরা প্রথমবার এশিয়ান কাপে খেললেও, বাংলাদেশের পুরুষ ফুটবল দল ১৯৮০ সালে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিল। সেই সময় একাধিকবার উত্তরের শক্তিশালী দল উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে খেলার অভিজ্ঞতা তার কাছে রয়েছে। চুন্নু জানান,‘বাংলাদেশের মেয়েদের খেলা দেখে আমি খুব আপ্লুত।’
চার দশক পরে বাংলাদেশ যদি এভাবে খেলতে পারে, তার পরও তাদের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই। বিশেষ করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন থেকে মেয়েদের বেতন-ভাতা যথাযথভাবে পেতে ভোগান্তি হচ্ছে।
এশিয়ান কাপ ১২টি দলে তিনটি গ্রুপে বিভক্ত। সেখান থেকেই সেরা আটটি দল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। যদিও চীন ম্যাচে ড্র করা হলে সেরা আটে যাওয়ার একটি সুযোগ থাকত। চুন্নুর মতে, এখনও সুযোগ আছে, যেমন ম্যাচ বাকি রয়েছে।
আরও পড়ুন: দুর্যোগে সবসময় প্রস্তুতি থাকা উচিত : দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রী
চুন্নু আরও বলেন, ‘দর্শকদের প্রত্যাশা অনেক, কিন্তু এই মেয়েরা কখনও সমর্থকদের হতাশ করে না। তারা দুইবার শাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এবং এখনও সাফল্যের পথে চলমান।’
শেষে, চুন্নু বলেন, ‘আমি আশা করি এই মেয়েরা ভবিষ্যতে আরও ভালো করবে এবং দর্শকদের সমর্থন পাবে।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন