ঢাকা মঙ্গলবার, ১০ই মার্চ, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৫শে ফাল্গুন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে রমজান, ১৪৪৭হিজরী
মঙ্গলবার, ১০ই মার্চ, ২০২৬ইং ২৫শে ফাল্গুন, ১৪৩২বাং

বাটলার মুগ্ধ, চীনের কোচ মিলিকে দেখে বিস্মিত


বাটলার মুগ্ধ, চীনের কোচ মিলিকে দেখে বিস্মিত

বাংলাদেশ দলের জন্য এটি ছিল নারীদের এশিয়ান কাপের ইতিহাসে প্রথম ম্যাচ, যেখানে তারা শক্তিশালী চীন দলের মুখোমুখি হয়েছিল। এশিয়ান কাপের ৯ বারের চ্যাম্পিয়নের বিপক্ষে বাংলাদেশের দলের তাৎক্ষণিক ভাবনা ছিল, 'তারা কি লড়াই করবে?' ম্যাচ শুরুর আগে এ প্রশ্নটি স্বাভাবিক ছিল, কেননা ফিফা র‌্যাঙ্কিংসহ বিভিন্ন পরিসংখ্যানে চীনের চেয়ে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে।

চীনের বর্তমান ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তারা ২-০ গোলের ব্যবধানে জয়লাভ করে। তবে স্কোরলাইন যাই হোক, বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা চীনের সঙ্গে সমানে সমান লড়াই করেছে। এ কারণে ম্যাচ শেষে কোচ পিটার বাটলার দলের খেলোয়াড়দের প্রশংসা করেছেন। তরুণ ১৯-২০ বছর বয়সী এই দলের লড়াইকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

অন্যদিকে চীনের কোচ আন্তে মিলিচিচ প্রথম ম্যাচে জয় পেয়ে সন্তুষ্ট। যদিও গোল ব্যবধানে কিছুটা অসন্তোষ ছিল, কিন্ত বাংলাদেশ দলের প্রশংসা তিনি করেন, বিশেষ করে गोलকিপার মিলি আক্তার সম্পর্কে। তিনি জানান, 'গোলকিপার মিলিকে একাদশে দেখে আমি অবাক হয়েছি। তবে সে খুব ভালো খেলেছে।'

আরও পড়ুন: সমাজে দ্বিগুণ বৈষম্য ভোগে প্রতিবন্ধী নারী : এফএলসি

সংবাদ সম্মেলনে চীনের কোচ বলেন, 'বাংলাদেশের ওপরে কোনো চাপ ছিল না, তারা মুক্তভাবে খেলেছে। প্রথম ম্যাচে আমাদের দুই গোল করার পাশাপাশি কোনো গোল খাওয়াও হয়নি, যা আমাদের জন্য সন্তोषজনক।'

ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, 'বাংলাদেশের বিভিন্ন খেলোয়াড়ের স্কিল অত্যন্ত ভালো।' ম্যাচের সময় ঋতুপর্ণা, মনিকা ও মারিয়াদের দেখে তার এমন মত প্রকাশ পায়।

বাংলাদেশের দলের লড়াকু মানসিকতা দেখে গর্বিত হয়েছেন কোচ পিটার বাটলার। প্রতিপক্ষের অর্জনে তিনি অভিনন্দন জানান, 'চীন এশিয়ার অন্যতম সেরা এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই জিতেছে। আমি তাদের অভিনন্দন জানাই।'

এছাড়া খেলোয়াড়দের প্রতি বাটলারের নির্দেশণা ছিল একেবারেই স্পষ্ট। 'আমি তাদের বলেছিলাম, নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে।' এবং তারা সেটিই করতে পেরেছে। বাটলার বলেন, 'আমরা এখানে রক্ষণ করতে আসিনি, আমি এমন কোচ নই।'

আরও পড়ুন: নার্সিং খাতে বাংলাদেশ-ফিলিপাইন সমঝোতা চুক্তি

তিনি জানান, 'মিলি আজ অসাধারণ খেলেছে। আমাকে পরিবর্তন আনতে হয়েছিল এবং আমি এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পাই না। আমি খুশি যে আমরা অসম্মানিত হইনি।'

বাটলার জানান, 'আমি শুধু নির্দিষ্ট জোনে রক্ষণ সামলানো কোচ নই। আমরা উঁচু মানের ফুটবল খেলছি এবং আমাদের উন্নতি হয়েছে।'

এ ছাড়া তিনি বলেন, 'এটিই মেয়েদের নিজেদের সচেতনতা মেলে ধরার সুযোগ এবং এটি তাদের ভবিষ্যতের উন্নতির সহায়ক হবে।' ভাষণে তিনি জানান, 'অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তারা এখানে এসেছে এবং তাদের আবার উঠে দাঁড়াতে হবে।'

আরও পড়ুন: কার্ড পাওয়ার পথে কোনো বাধা থাকবে না: প্রতিমন্ত্রী

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে বিদেশি পর্যটকের আগমন ৯ শতাংশ কমেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই মার্চ, ২০২৬ ইং

০৮:১০ পি.এম


ভারতে বিদেশি পর্যটকের আগমন ৯ শতাংশ কমেছে

২০২৪ সালের আগস্টে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরে ও নবনির্বাচিত সরকারের ক্ষমতায় আসার দীর্ঘ ১৮ মাসে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের তীব্র শীতলতা দেখা যায়, যা কূটনৈতিক স্তরেও প্রভাব ফেলে। ভিসা প্রদানে এই শীতলতার প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটন ভিসার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়। এমনকি নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে, বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা পর্যটকদের সংখ্যাও হ্রাস পায়। এই পরিবর্তনের প্রভাব ভারতেও বিদেশি পর্যটকের সংখ্যায় দৃশ্যমান।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারতে বিদেশি পর্যটকদের আগমন (এফটিএ) ৯.৪ শতাংশ কমে ৯০ লাখ ২০ হাজারের কাছাকাছি দাঁড়ায়। তুলনার জন্য, ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৯৯.৫ লাখ এবং ২০১৯ সালে ১.১ কোটি।

বাংলাদেশ থেকে ভারতে পর্যটকদের আগমনের সংখ্যা ২০২৫ সালে ৭৩.৩৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। সেদেশ থেকে ৪ লাখ ৬৬ হাজার ১২ জন পর্যটক ভারতে এসে উপস্থিত হয়েছিল, যা ২০২৪ সালের ১৭ লাখ ৫০ হাজার ১৬৫ জনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

ভারত প্রতি বছর প্রায় ৯০ লাখ বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ করে, যেখানে ফ্রান্স ও স্পেনের মতো দেশগুলি প্রতি বছরে ৮ কোটি থেকে ১০০ কোটি পর্যটক পায়। থাইল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও বিদেশি পর্যটকের আগমন ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ভারতে বিশাল আকৃতির ও বৈচিত্র্য থাকা সত্ত্বেও, তুলনামূলকভাবে দুবাই ভারতের তুলনায় অধিক পর্যটক আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়।

২০২৫ সালে বিদেশি পর্যটকদের আগমনের শীর্ষ স্থানে ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে ১০ লাখ ৮১ হাজার (১.৮১ মিলিয়ন) পর্যটক উপস্থিত হয়। এরপর যুক্তরাজ্য (১.০৭ মিলিয়ন), অস্ট্রেলিয়া (০.৫৪ মিলিয়ন) এবং কানাডার (০.৫৩ মিলিয়ন) অবস্থান ছিল।

তবে, ভারতে বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যা কমলেও, ভারতীয় পর্যটকরা অন্যান্য দেশে ভ্রমণে ব্যস্ত ছিলেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরে, ৩২৭.১ লাখ ভারতীয় অন্য দেশগুলিতে ভ্রমণ করেছেন। ২০২৪ সালের তুলনায় এই হার ৫.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ২০১৯ সালের তুলনায় এতে ২১.৫ শতাংশের বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ভারতীয় পর্যটকদের জন্য শীর্ষ গন্তব্য হল সংযুক্ত আরব আমিরাত, যেখানে ২৬.৩ শতাংশ ভারতীয় পর্যটক ভ্রমণ করেছিলেন। পরবর্তী গন্তব্যগুলো হলো সৌদি আরব (১০.৩ শতাংশ), থাইল্যান্ড (৬.৮ শতাংশ), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (৬.১ শতাংশ) এবং সিঙ্গাপুর (৪.৭ শতাংশ)।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের সঙ্গে কোনো বৈঠক নয়, ট্রাম্পের কঠোর মন্তব্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই মার্চ, ২০২৬ ইং

০৮:১২ পি.এম


ইরানের সঙ্গে কোনো বৈঠক নয়, ট্রাম্পের কঠোর মন্তব্য

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে এ দাবি করেছেন।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের সমন্বিত হামলা শুরু হওয়ার পর ইরান আলোচনার প্রস্তাব তৈরি করেছিল। কিন্তু তিনি মনে করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ ‘অতীত’ হয়ে গেছে।

এর আগে তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, ইরানের নতুন নেতৃত্ব মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চালাতে আগ্রহী রয়েছে। তিনিও (ট্রাম্প) আলোচনা করতে ইচ্ছুক ছিল। এই বিষয়ে হোয়াইট হাউস থেকেও তথ্য দেওয়া হয়েছিল।

তবে ইরানি কর্তৃপক্ষও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি দাবি করেছেন যে, মার্কিন গণমাধ্যমের এই অভিযোগ যে ইরান তাদের ওপর চাপ দিচ্ছে, তা সঠিক নয়।

সোমবার (২ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লারিজানি বলেন, ‘আমরা আমেরিকার সাথে আলোচনা করব না।’

এছাড়া, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রকাশ করে যে, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যার পর আলী লারিজানি ওমানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরমাণু আলোচনার জন্য চাপ প্রয়োগ করেছে।

গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল শুরু করে ইরানে যৌথ হামলা। এই হামলায় তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ একাধিক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা নিহত হন। পরে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিগুলোসহ বিভিন্ন স্থানে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিপর্যস্ত মার্কিন পাইলটদের ওপর হামলার পরিকল্পনা, কুয়েতিদের ভূমিকা, ট্রাম্পের জন্য সতর্কবার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই মার্চ, ২০২৬ ইং

০৮:১৫ পি.এম


বিপর্যস্ত মার্কিন পাইলটদের ওপর হামলার পরিকল্পনা, কুয়েতিদের ভূমিকা, ট্রাম্পের জন্য সতর্কবার্তা

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে যুদ্ধের ঘনত্ব এখন মার্কিন বিমানবাহিনীর জন্য একটি রক্তক্ষয়ী অধ্যায় শুরু করেছে। অপারেশন এপিক ফিউরির তৃতীয় দিনে পেন্টাগনের বিশাল বিপর্যয় ঘটেছে। ২ মার্চ কুয়েতের আকাশসীমায় কুয়েতি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভুলবশত চালানো আক্রমণে মার্কিন বিমানবাহিনীর তিনটি অত্যাধুনিক এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ঘটনার সময় মার্কিন প্রশাসন দাবি করছিল যে তারা ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে প্রায় নিস্ক্রিয় করেছে। তবে যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা ভিন্ন, যেখানে বিশৃঙ্খলা এবং সমন্বয়হীনতা প্রকট হয়ে উঠেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, বিধ্বস্ত হওয়ার সময়ে বিমানগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের হামলার মোকাবিলা করতে কুয়েতের আকাশে অবস্থান করছিল। এ সময় কুয়েতি রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভুলবশত এই আমেরিকান বিমানগুলোকে শত্রু হিসেবে শনাক্ত করে। যদিও অত্যাধুনিক ই-পাউস ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্যুট এবং এএন/এপিজি-৭০ রাডার থাকা সত্ত্বেও দুর্ঘটনাটি এড়ানো সম্ভব হয়নি। বিমানের তিন পাইলট ও তিন জন ওয়েপন সিস্টেম অফিসার প্যারাসুটের মাধ্যমে নিরাপদে নামতে সক্ষম হয়েছেন এবং বর্তমানে তারা সুস্থ আছেন।

কুয়েত সরকার এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য দায় স্বীকার করে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে। তবে এটি শুধুমাত্র একটি কারিগরি ত্রুটি নয় বরং মধ্যপ্রাচ্যে মিত্র দেশগুলোর মধ্যে আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়ের সমস্যা প্রকাশ করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধের ময়দানে যখন শত শত ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র চারপাশ থেকে আক্রমণ করে, তখন বন্ধু এবং শত্রুর বিমানের পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। এই ‘ফগ অফ ওয়ার’ (যুদ্ধের অস্পষ্টতা) মার্কিন কৌশলের ওপর প্রশ্নচিহ্ন তুলছে, যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য আরও জটিল হয়ে উঠছে।

বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসস্তূপের কাছে এসে কুয়েতিরা মার্কিন পাইলটদের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শনের পরিবর্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে। উত্তেজিত জনতা আমেরিকাকে যুদ্ধের জন্য দায়ী করছে। তাদের মতে, ওয়াশিংটন ইরানকে উত্তেজিত করে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে বিপন্ন করে দিয়েছে। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আসার পর মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে নতুন বিতর্ক উঠেছে।

মার্কিন ও ইসরায়েলি পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছিল, ইরানের আক্রমণাত্মক ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবে ইরান এখনও অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। এর ফলে মার্কিন এবং তাদের মিত্র দেশগুলি হীরক কুম্ভীরের মত দিশেহারা হয়ে পড়ছে এবং লক্ষ্যভ্রষ্টভাবে নিজেদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। পেন্টাগনের গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে রণক্ষেত্রের পার্থক্য এখন ট্রাম্প প্রশাসনের প্রাক্তন দাবিগুলোকে হাস্যকর করে তুলেছে।

বিধ্বস্ত এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগলগুলো মার্কিন বিমানবাহিনীর গৌরবের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। এই বিমানগুলো শব্দের চেয়ে আড়াই গুণ বেশি গতিতে উড়তে পারে এবং ৬০ হাজার ফুট উচ্চতায় অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম। তবে আধিকারিকরা জানান, আধুনিক যুদ্ধে ড্রোন ও মিসাইলের চাপে এগুলো সঠিকভাবে কার্যকর হয়ে উঠতে পারছে না। সৃষ্ট সংকটের মধ্যেও মার্কিন বিমানবাহিনী নতুন প্রযুক্তির এফ-১৫ইএক্স ইগল-২ নিয়ে আসার পরিকল্পনা করেছে, তবে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া ধীর গতি পাচ্ছে।

ডিফেন্স বিশ্লেষক ব্র্যান্ডন জে. উইকার্ট মনে করেন, এই ঘটনাটি মার্কিন সামরিক শক্তির ওপর একটি বড় আঘাত। বছর বছর ধরে কোটি কোটি ট্যাক্স ডলার খরচ করে উন্নত সেন্সর এবং ট্র্যাকিং সিস্টেম তৈরি করা হয়েছে, কিন্তু বাস্তব যুদ্ধে সেগুলো কুয়েতি রাডারের ভুল শনাক্তকরণ থেকে রক্ষা করতে পারেনি। এটি প্রমাণ করছে যে প্রযুক্তির উন্নতিও বিশৃঙ্খল যুদ্ধকে আটকাতে সক্ষম নয়।

শেষমেষ, দুর্ঘটনাটি একটি বড় সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে। অপারেশন এপিক ফিউরি যে সহজ যুদ্ধ হবে না, তা প্রতিটি পদক্ষেপে স্পষ্ট হচ্ছে। বন্ধুর দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় মার্কিন বিমান বিমান নিধনের ঘটনা এবং জনরোষের মুখোমুখি হওয়া পেন্টাগনের জন্য চরম বিব্রতকর হয়েছে। ইরানের আক্রমণ যুদ্ধের সূচনা বুঝিয়ে দিচ্ছে যে মার্কিন বিমানবাহিনীকে তার কাজের জন্য আরও কঠিন ও অনিশ্চিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজ প্রণালী বন্ধ, ইউরোপে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ৭৮৫ ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই মার্চ, ২০২৬ ইং

০৮:২০ পি.এম


হরমুজ প্রণালী বন্ধ, ইউরোপে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ৭৮৫ ডলার

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালী বন্ধের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার পর ইউরোপের গ্যাস বাজারে তীব্র অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

লন্ডনের আইসিই এক্সচেঞ্জের উপাত্ত অনুযায়ী, প্রতি হাজার ঘনমিটারে দাম ৭৮৫ ডলারে পৌঁছে গেছে, যা জানুয়ারি ২০২৩–এর পরের সর্বোচ্চ স্তর। একদিনে দাম প্রায় ৪৫ শতাংশ বেড়েছে। তবে পরবর্তীতে দাম কিছুটা পড়ে গিয়ে ৭০০ ডলারে নেমে আসে।

অন্যদিকে, কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি কাতার এনার্জি ইরানি বিমান হামলার কারণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র এবং অস্ট্রেলিয়ার পর কাতার বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানিকারক হিসেবে পরিচিত। তাদের বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতা বছরে ৭৭ মিলিয়ন টন, যা ভবিষ্যতে ১৪২ মিলিয়ন টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক আগ্রাসন শুরু করে। তেহরান ও অন্যান্য শহরে হামলা করা হয়। হোয়াইট হাউস উল্লেখ করেছে যে এই পদক্ষেপটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে প্রয়োজনীয় ছিল। সেই সঙ্গে ইরানি জনগণকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান করা হয়েছে।

হামলার ফলস্বরূপ, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং আরও বেশ কিছু শীর্ষ সরকারী কর্মকর্তার নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, গত শনিবার থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার কারণে ইরানে ৭৮০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

এর জবাবে ইরান 'অপারেশন ট্রু প্রোমিস ৪' নামে পাল্টা হামলা শুরু করেছে। ইসরাইলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সেনাবাহিনী ও অন্যান্য স্থানে হামলা চালানো হচ্ছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দ্বারা।

ইরানের সরকারি গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, সোমবার (২ মার্চ) এক আইআরজিসি কমান্ডার উল্লেখ করেন যে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে যে, যে কোনও জাহাজ যদি এই প্রণালী দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তবে তাদের বিরুদ্ধে হামলা করা হবে।

তথ্যসূত্র: তাস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে রমজান, ১৪৪৭হিঃ
ফজর ০৪:৫৭
জোহর ১২:১০
আসর ০৪:২৬
মাগরিব ০৬:০৫
ইশা ০৭:১৬
সূর্যোদয় : ০৬:১৩ সূর্যাস্ত : ০৬:০৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%