০৮:০৭ পি.এম
বাংলাদেশ দলের জন্য এটি ছিল নারীদের এশিয়ান কাপের ইতিহাসে প্রথম ম্যাচ, যেখানে তারা শক্তিশালী চীন দলের মুখোমুখি হয়েছিল। এশিয়ান কাপের ৯ বারের চ্যাম্পিয়নের বিপক্ষে বাংলাদেশের দলের তাৎক্ষণিক ভাবনা ছিল, 'তারা কি লড়াই করবে?' ম্যাচ শুরুর আগে এ প্রশ্নটি স্বাভাবিক ছিল, কেননা ফিফা র্যাঙ্কিংসহ বিভিন্ন পরিসংখ্যানে চীনের চেয়ে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে।
চীনের বর্তমান ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তারা ২-০ গোলের ব্যবধানে জয়লাভ করে। তবে স্কোরলাইন যাই হোক, বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা চীনের সঙ্গে সমানে সমান লড়াই করেছে। এ কারণে ম্যাচ শেষে কোচ পিটার বাটলার দলের খেলোয়াড়দের প্রশংসা করেছেন। তরুণ ১৯-২০ বছর বয়সী এই দলের লড়াইকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে চীনের কোচ আন্তে মিলিচিচ প্রথম ম্যাচে জয় পেয়ে সন্তুষ্ট। যদিও গোল ব্যবধানে কিছুটা অসন্তোষ ছিল, কিন্ত বাংলাদেশ দলের প্রশংসা তিনি করেন, বিশেষ করে गोलকিপার মিলি আক্তার সম্পর্কে। তিনি জানান, 'গোলকিপার মিলিকে একাদশে দেখে আমি অবাক হয়েছি। তবে সে খুব ভালো খেলেছে।'
আরও পড়ুন: সমাজে দ্বিগুণ বৈষম্য ভোগে প্রতিবন্ধী নারী : এফএলসি
সংবাদ সম্মেলনে চীনের কোচ বলেন, 'বাংলাদেশের ওপরে কোনো চাপ ছিল না, তারা মুক্তভাবে খেলেছে। প্রথম ম্যাচে আমাদের দুই গোল করার পাশাপাশি কোনো গোল খাওয়াও হয়নি, যা আমাদের জন্য সন্তोषজনক।'
ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, 'বাংলাদেশের বিভিন্ন খেলোয়াড়ের স্কিল অত্যন্ত ভালো।' ম্যাচের সময় ঋতুপর্ণা, মনিকা ও মারিয়াদের দেখে তার এমন মত প্রকাশ পায়।
বাংলাদেশের দলের লড়াকু মানসিকতা দেখে গর্বিত হয়েছেন কোচ পিটার বাটলার। প্রতিপক্ষের অর্জনে তিনি অভিনন্দন জানান, 'চীন এশিয়ার অন্যতম সেরা এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই জিতেছে। আমি তাদের অভিনন্দন জানাই।'
এছাড়া খেলোয়াড়দের প্রতি বাটলারের নির্দেশণা ছিল একেবারেই স্পষ্ট। 'আমি তাদের বলেছিলাম, নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে।' এবং তারা সেটিই করতে পেরেছে। বাটলার বলেন, 'আমরা এখানে রক্ষণ করতে আসিনি, আমি এমন কোচ নই।'
আরও পড়ুন: নার্সিং খাতে বাংলাদেশ-ফিলিপাইন সমঝোতা চুক্তি
তিনি জানান, 'মিলি আজ অসাধারণ খেলেছে। আমাকে পরিবর্তন আনতে হয়েছিল এবং আমি এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পাই না। আমি খুশি যে আমরা অসম্মানিত হইনি।'
বাটলার জানান, 'আমি শুধু নির্দিষ্ট জোনে রক্ষণ সামলানো কোচ নই। আমরা উঁচু মানের ফুটবল খেলছি এবং আমাদের উন্নতি হয়েছে।'
এ ছাড়া তিনি বলেন, 'এটিই মেয়েদের নিজেদের সচেতনতা মেলে ধরার সুযোগ এবং এটি তাদের ভবিষ্যতের উন্নতির সহায়ক হবে।' ভাষণে তিনি জানান, 'অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তারা এখানে এসেছে এবং তাদের আবার উঠে দাঁড়াতে হবে।'
আরও পড়ুন: কার্ড পাওয়ার পথে কোনো বাধা থাকবে না: প্রতিমন্ত্রী
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন