শনিবার, ৭ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ইং
০২:৪৭ এম
বাংলাদেশের সাংবাদিক ও টেলিভিশন আলোচক জাকারিয়া কাজল আর আমাদের মধ্যে নেই। তিনি শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
৬৭ বছর বয়স্ক কাজল দীর্ঘদিন ধরেই ডায়বেটিস এবং কিডনি ও লিভারের জটিলতার সঙ্গে লড়াই করছিলেন।
জাকারিয়া কাজলের ছোট ভাই মোহাম্মদ সোহেল গণমাধ্যমকে জানাচ্ছেন, শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বাদ জোহর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সামনে জানাজার পর বনানী কবরস্থানে কাজলকে দাফন করা হবে।
তিনি অর্থনীতি বিষয়ে সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সাবেক সভাপতি এবং বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্বও পালন করেছেন।
১৯৫৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন জাকারিয়া কাজল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর লাভ করেন। দৈনিক আজাদ, দৈনিক ইনকিলাব ও ডেইলি অবজারভারের মতো সংবাদপত্রগুলিতে কাজ করার পরে, তিনি কয়েকটি টেলিভিশন স্টেশনেও চাকরি করেছেন।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান প্রতিবেদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ যমুনা টেলিভিশনের হেড অব নিউজ হিসেবে ছিলেন।
মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তিনি দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে রেখে গেছেন।
তার মৃত্যুর খবরটি ইআরএফ ও ডিআরইউ’র পক্ষ থেকে শোকের সঙ্গে জানানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নির্বাচনী প্রচারণায় মিথ্যা প্রচারের আশ্রয় গ্রহণকারীরা জাহান্নামের স্থান পাবেন। তারা আবার জান্নাতের টিকিট বিক্রি করছেন। নিজেদের জাহান্নামের ঠিকানা নিয়ে তারা জান্নাতে টিকিট বিক্রি করছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-০৩ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হারুনুর রশীদ।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে সদর উপজেলার বারোঘরিয়া ইউনিয়নের চামাগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হারুনুর রশীদ জানিয়েছেন, কোরআন হাদিসের তাফসির করুন বা যাই করুন, আপনাদের আমল অর্থহীন হয়ে যাবে। কোরআন যদি সত্যিকারের হয়, আল্লাহর কালামের বাণী যদি সত্যি হয়, আল্লাহ বলছেন মিথ্যাবাদীদের স্থান হবে জাহান্নাম। তবুও আপনারা জান্নাতে টিকিট বিক্রি করছেন, যেখানে আপনাদের ঠিকানা জাহান্নাম।
বারোঘরিয়া ইউনিয়ন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আয়োজনের আওতায় অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক এমপি অ্যাড. সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়া।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেছেন, জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেয়নি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তারা মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছিল এবং তাদের বাড়িতে আগুন লাগিয়েছিল। নারীদের নিরাপত্তার বিষয়ে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের বক্তব্যকে তিনি প্রশ্ন করেছেন। ১৯৭১ সালে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলেন কি? নারীদের মর্যাদা ও সম্মান দেওয়া হয়নি।
চার বার নির্বাচিত সাবেক এমপি জানান, জামায়াতের আমির কর্মজীবী নারীদের পতিতার সাথে তুলনা করেছেন। নারীরা এতদিন ধরে বিভিন্ন সেক্টরে সাফল্য অর্জন করে চলেছেন। তারা কি সবাই বেশ্যা? এদেরকে ভোট দেয়া ঠিক হবে না। জামায়াতকে তাদের মেয়েদের চাকরি না করার জন্য ক্ষমা চাইতে হবে।
প্রধান বক্তা ও বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক এমপি অ্যাড. সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়া বলেছেন, জামায়াতের নেতাকর্মীরা মায়ের কাছে বেহেশত-দোজখ বিক্রির তাও অন্যায় করছে। বেহেশত-দোজখের মালিক এই পৃথিবী নয় এবং এই দেশের কোন রাজনৈতিক দলও নয়। দোজখ-বেহেশত শুধুমাত্র আল্লাহর এখতিয়ার। বেহেশত দেওয়ার দৃঢ়তার সাথে ভোট চাইলে তাদেরকে থাপ্পড় মারবেন। মিথ্যা তথ্য পেশ করতে এবং ইসলামের নাম ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে প্রতিবাদ করতে হবে। কোরআন ছুঁয়ে শপথ করিয়ে ভোটের প্রতিশ্রুতি দিলে সেই ব্যক্তিকেও থাপ্পড় দিতে হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সকল প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত স্তরে। নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণের জন্য কমিশন পূর্ণভাবে প্রস্তুত এবং এখন কেবলমাত্র ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য কেন্দ্রে এসে উপস্থিত হওয়ার অপেক্ষা।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'আমাদের সকল প্রস্তুতি শেষ। ভোটাররা এখন কেন্দ্রে গিয়ে নির্ভয়ে তাদের রায় দেবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।'
ইসি কমিশনার সম্পূর্ণ বছরের ১১৬টি সংসদীয় আসনে ইতিমধ্যেই ব্যালট পেপার পৌঁছে দেয়া হয়েছে এবং বাকি আসনগুলোতে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যালট পৌঁছানোর কথা জানিয়েছে। আদালতের নির্দেশে শেষ মুহূর্তে কিছু প্রার্থীর প্রার্থিতা পুনরুদ্ধার হওয়ায় কয়েকটি আসনে ব্যালট পুনর্মুদ্রণের প্রয়োজন হয়, যার জেরে সরবরাহে সামান্য বিলম্ব ঘটেছে বলে ইসি সচিবালয় নিশ্চিত করেছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এসব ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দপ্তরে পৌঁছাবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, 'বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে এত বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কখনো নির্বাচনী মাঠে দেখা যায়নি। ভোটারদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচনের সাতদিন আগে থেকেই সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে এবং আনসার সদস্যরা আটদিন দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা ইতিমধ্যে দেশজুড়ে স্থির রয়েছেন। এই ছাড়াও, নির্বাচনী এলাকায় শান্তি রক্ষার জন্য ১ হাজার ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন।'
ইসি সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ৬ কোটি ৪৮ লাখের বেশি এবং নারী ভোটার সংখ্যা ৬ কোটি ২৮ লাখের উপরে। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ১ হাজার ২৩২ জন।
গাজীপুর-২ আসনে সর্বোচ্চ ৮ লাখ ৪ হাজার ভোটার এবং ঝালকাঠি-১ আসনে সর্বনিম্ন ২ লাখ ২৮ হাজার ভোটার নিবন্ধিত রয়েছেন। প্রায় ২ হাজার ৩৪ জন প্রার্থী ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যেখানে বিএনপি ২৮৮ জন প্রার্থী নিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে। তবে শেরপুর-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে সেখানে ভোট স্থগিত করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন আশা করছে, এবারের নির্বাচনে অন্তত ৫৫ শতাংশ অথবা তার বেশি ভোটার উপস্থিত হতে পারেন। দেশি ও বিদেশি প্রায় ৫৬ হাজার পর্যবেক্ষক এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন।
প্রবাসীদের সুবিধার্থে পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে ইতিমধ্যেই অনেক ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
এদিকে, আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় সকল প্রচার-প্রচারণা বন্ধ হবে, এর ঠিক ৪৮ ঘণ্টা পর ১২ ফেব্রুয়ারি দেশবাসী তাদের পরবর্তী সরকার নির্ধারণের জন্য ভোট দেবেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শহিদ উসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে আগামী নির্বাচনের পরে যে সরকার ক্ষমতায় আসবে, তাদের জীবনকে ‘জাহান্নাম’ বানিয়ে দেওয়ার কঠোর সতর্কতা দিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে পুলিশের হামলার বিরুদ্ধে আয়োজিত ইনকিলাব মঞ্চের সংবাদ সম্মেলনে এই হুঁশিয়ারি এসেছে।
আব্দুল্লাহ আল জাবের সংবাদ সম্মেলনে জানান, "আমরা আমাদের এক ভাই হাদিকে হারিয়েছি। এরপর আমাদের আর কোনো ভাইকে হারালেও নির্বাচন ১২ তারিখে করতে হবে, নির্বাচন পিছানো যাবে না। তবে নির্বাচনের পরে যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসবে, তারা যদি হাদি হত্যার বিষয়ে গ্রহণযোগ্য কোনো পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে আমরা তাদের জীবনকে জাহান্নাম বানিয়ে দেব।"
তিনি যোগ করেন, শহিদ উসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত জাতিসংঘের অধীনের আওতায় নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে যমুনা এলাকার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিল ইনকিলাব মঞ্চ। এ কর্মসূচির সময় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে, অল্প কিছু নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
জাবের আরও বলেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে প্রধান উপদেষ্টার কাছে জাতিসংঘে চিঠি পাঠানোর আহ্বান জানাতে অবস্থান করেছিলেন। যখন কিছু প্রতিনিধিকে ভেতরে পাঠাতে চাওয়া হয়, তখন পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এরপর ধস্তাধস্তি ও হামলার ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, আন্দোলনকারীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। রাবার বুলেট, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে, ফলে কয়েকজন নারীসহ আন্দোলনকারীদের মাথা, মুখ ও হাতে গুরুতর আঘাত লাগে বলে তিনি দাবি করেন।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব জানান, শহিদ উসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের জন্য একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত চান, যা জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে হবে। এ জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সরকারের জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দায়িত্ব পালনকারী অনেক পুলিশ সদস্যের পোশাকে নামফলক ছিল না এবং তারা মুখে মাস্ক ও হেলমেট পরা ছিল, যা তাদের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি করেছে।
আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, "আমরা শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই। তবে যারা হামলার সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।"
তিনি জানান, সরকার একবার মৌখিকভাবে জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত করার আশ্বাস দিলেও কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করেনি। সর্বশেষ ৮ তারিখের মধ্যে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর)-এ আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িতদের পাশাপাশি এর পেছনের পরিকল্পনাকারী, সহায়তাকারী ও আশ্রয়দাতাদেরও তদন্তের আওতায় আনতে হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাম্বিয়ার পূর্বাঞ্চলে হাতির এক দলের কাছ থেকে পালানোর সময় একজন জেলের কুমিরের আক্রমণের ফলে মৃত্যু হয়েছে। ৫২ বছর বয়সী নিহত ব্যক্তির নাম ডিন নিয়িরেন্ডা। এই তথ্য পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
পুলিশের বরাতে জানা যায়, ডিন নিয়িরেন্ডা তার দুই বন্ধুর সাথে মাছ ধরার পর বাড়ি ফিরছিলেন। হঠাৎ তারা একটি হাতির পাল দেখতে পান। বিপদের সংকেত বুঝতে পেরে তিনজনে দৌড়াতে শুরু করেন। পালানোর সময়, নিয়িরেন্ডা লুয়াংগা নদীর কাছে এক খালে ঝাঁপ দেন। সেখানেই কুমিরটি তাঁর উপর আকস্মিক হামলা চালায়।
স্থানীয় পুলিশ প্রধান রবার্টসন মুইমেবা সাংবাদিকদের জানান, কুমিরটি নিয়িরেন্ডার ডান ঊরুতে আঘাত করে কামড় দিয়েছে। কিন্তু নিয়িরেন্ডা তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে আক্রমণটি প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেন এবং কোনো মতে কুমিরের কবল থেকে মুক্তি পান। আহত অবস্থায় তিনি খাল থেকে উঠে আসেন।
ঘটনাটি দূর থেকে দেখতে থাকা তার দুই বন্ধু দ্রুত এগিয়ে এসে গুরুতর ভাবে আহত নিয়িরেন্ডাকে নদীর পাড়ে নেন। অপারগতা সত্ত্বেও, প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে তিনি শেষ পর্যন্ত মারা যান।
বন্যপ্রাণী বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে লক্ষ্য করেন নিয়িরেন্ডার ডান ঊরুতে গভীর কামড়ের দাগ রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ তার মৃত্যুর মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিবিসির রিপোর্ট অনুযায়ী, জাম্বিয়ায় হাতির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেড়ে গেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে মানুষের সঙ্গে বন্যপ্রাণীর সংঘাতে মৃত্যুর ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। সংরক্ষণবাদীদের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ লুয়াংগা জাতীয় উদ্যানের লুয়াংগা নদী নাইল কুমিরের একটি বিশাল আবাসস্থল।
কমিউনিটি-ভিত্তিক সংরক্ষণ সংস্থা রিসোর্স আফ্রিকায় ২০২৩ সালে জাম্বিয়ায় বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত ২৬টি মৃত্যুর ঘটনা জানানো হয়েছে, এর মধ্যে ১৫টি মৃত্যু কুমিরের আক্রমণের ফলে হয়েছে। অধিকাংশ ঘটনা লুয়াংগা নদী এলাকায় ঘটেছে।
এদিকে, জাম্বিয়ান কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের বন্যপ্রাণী অঞ্চলগুলোর পারিপার্শ্বে চলাচলের সময় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা আহ্বান জানিয়েছে এবং এ ধরণের সংঘাত কমাতে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরির মত পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ