শনিবার, ২৮শে ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ইং
০৯:৪১ পি.এম
এটিএন বাংলার চিফ রিপোর্টার কামরুজ্জামান রাজিবের পিতা মো. অছিউজ্জামান (৮০) মৃত্যুবরণ করেছেন। তার মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুকালে তিনি দুই পুত্র, এক কন্যা ও নাতি-নাতনিদের পাশাপাশি অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
জানা গেছে, বাদ এশা তারাবির পর রায়ের বাগের মদিনাবাগ জামে মসজিদের নামাজের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। সেই জানাজার পর তাকে মাতুয়াইল কবরস্থানে দাফন করা হবে।
মরহুমের মৃত্যুতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
অপর শোকবাণীতে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল এবং সদস্য সচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি শোক জ্ঞাপন করেছেন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা প্রসঙ্গে মস্কোতে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ব্যাপক আলোচনা করেছেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সাথে ফোনে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। ল্যাভরভ জানিয়েছেন, তিনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি বৈঠক আহ্বান করবেন।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলাকে ‘বেপরোয়া’ হিসাবে চিহ্নিত করে বলেছে যে, এটি অপ্রীতিকর এবং পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলার কোন সন্দেহ নেই। এটি একটি বিদেশি সার্বভৌম জাতির উপর আক্রমণ, যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে মনে করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে যে, এই অঞ্চলে তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ চরম আকার ধারণ করেছে।
বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিষয়ে জানানো হয়, সেখানে আক্রমণ হলেও কার্যত কোনো ক্ষতি হয়নি, কিন্তু এটি পরিচালনাকারী রাশিয়ান কোম্পানি ইরান থেকে প্রায় ১০০ জন কর্মীকে সরিয়ে নিয়েছে।
শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল যৌথভাবে হামলা শুরু করে, যেখানে ইসরাইল ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করার জন্য বিভিন্ন নেতাদের সম্মেলনস্থলে হামলা চালায়। তারা ইরানের দুটি স্কুলে হামলা করেছে, যার ফলে কমপক্ষে ৭০ জন নিহত হয়েছে।
ইরান পাল্টা আক্রমণ শুরু করে জানিয়েছে যে, তারা ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে হামলা অব্যাহত রাখবে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চলমান হামলা-পাল্টা হামলার প্রেক্ষাপটে, রাশিয়া, যা ইরানের মিত্র দেশ হিসাবে পরিচিত, ইরান এবং ইসরাইলের মধ্যে বিমান চলাচল স্থগিত করেছে।
মস্কোর পরিবহন মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জানিয়েছে যে, উভয় দেশের আকাশসীমা বন্ধ করা হয়েছে।
রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপ-চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ মার্কিন সামরিক হামলার কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, এই হামলার মাধ্যমে ওয়াশিংটন তাদের ‘আসল রূপ’ প্রকাশ করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইরানে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ব্যাপারে চীন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, ইরানের সার্বভৌমত্বকে অবশ্যই সম্মান করা উচিত।
একটি বিবৃতিতে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে, ইরানের জাতীয় সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করতে হবে। বেইজিং সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন উত্তেজনা এড়িয়ে চলা হয় এবং পুনরায় সংলাপ শুরু করা হয়।
পরমাণু ইস্যু নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলার মাঝেই আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ইসরাইল হামলা শুরু করে। মার্কিন ও ইসরাইলি যৌথ হামলায় তেহরানে ইরানি প্রেসিডেন্টের বাসভবনসহ ৩০টির বেশি স্থানের লক্ষ্যবস্তু নির্বাচিত করা হয়েছে। হামলা এখনও চলছে এবং এতে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
হামলার জবাবে কিছু ঘণ্টা পর ইরান ইসরাইলে পাল্টা হামলা শুরু করে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিগুলো টার্গেট করা হযেছে। লক্ষ্যবস্তুতে কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি, কুয়েতের আল সালেম বিমানঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল দাফরা বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের পঞ্চম মার্কিন ঘাঁটি অন্তর্ভুক্ত।
এ ঘটনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, পরিস্থিতি দ্রুত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। এই সামরিক আক্রমণ পুরো অঞ্চলের জন্য আরও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত দ্রুত এসব ‘দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ডের’ পারস্পরিক মূল্যায়ন করা। রাশিয়া জানিয়েছে, তারা আগের মতোই আন্তর্জাতিক আইন, পারিণীত সম্মান এবং স্বার্থের ভারসাম্যের ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করার জন্য সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে এক পোস্টে তিনি বলেন, এটি উত্তেজনা বৃদ্ধি করে এবং অনিশ্চিত ও প্রতিকূল বিশ্ব ব্যবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযান একটি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ভোরে শুরু হওয়া এই হামলায় দেশটির ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২০টিরও বেশি প্রদেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই তথ্য এএফপির প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং দেশের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম এই ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা নিশ্চিত করেছে।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনাটি দক্ষিণ ইরানের মিনাব কাউন্টিতে সংঘটিত হয়েছে। সেখানে গভর্নর জানিয়েছেন, একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে ঘটনাস্থলেই ৫৩ জন শিশু শিক্ষার্থী নিহত হয়। এ হামলায় আহত হয়েছে আরও অন্তত ৬০ জন। রক্তভেজা বইখাতা এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া শিশুদের নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো ইরান গভীর শোকে চিন্তিত।
এই পরিস্থিতিতে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে একটি ভাষণে জানিয়েছেন, হামলার সঙ্গে জড়িত প্রতিটি স্থাপনাকে এখন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ মনে করা হবে।
তিনি বলছেন, ‘যেসব স্থান থেকে মার্কিন ও ইহুদিবাদী ইসরাইলের এই হামলা পরিচালিত হয়েছে এবং ইরানের প্রতিরক্ষা বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী সেই সব স্থাপনাকেই টার্গেট করছে।’
আরাঘচি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইরানের আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং ইরান, কেবল ইসরাইল নয়, বরং হামলায় সহায়তা প্রদানকারী মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এছাড়া, ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মুখপাত্র মোজতবা খালেদি জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ২০টিরও বেশি প্রদেশে হামলার খবর রয়েছে। রাজধানী তেহরান থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশগুলোতে বিস্ফোরণের ঘটনাগুলি ঘটছে। উদ্ধারকর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজে লাগিত হয়েছে, তবে ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
গত কয়েক মাসের ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলছিল ‘ছায়াযুদ্ধ’, যা আজ থেকে সরাসরি রক্তক্ষয়ী সংঘাতে পরিণত হলো। শনিবারের বড় ধরনের হামলার পরে, ইরান তাদের ‘কঠোর জবাব’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এএফপির রিপোর্ট অনুযায়ী, তেহরানের এই হুংকারের পর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী ও তাদের সহযোগী দেশগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মন্তব্য করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা ইরানের জনগণের জন্য তেহরানের ‘সন্ত্রাসী সরকারের’ বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার একটি সুবর্ণ সুযোগ প্রদান করছে।
২০২২ সাল থেকে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনে লড়াইরত ইউক্রেন সরকার এ পর্যন্ত বহুবার অভিযোগ করেছে যে, ইরান মস্কোকে শাহেদ ড্রোন এবং স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র সরবরাহ করছে।
কিয়েভ থেকে আগত এএফপি-র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, ‘ইরানের জনগণকে সন্ত্রাসী শাসনের হাত থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া ন্যায্য, এই শাসন ইরান থেকে উৎপন্ন সন্ত্রাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সব জাতির নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।’
তিনি এও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র যখন দৃঢ় থাকে, বৈশ্বিক অপরাধীরা দুর্বল হয়ে পড়ে।’
জেলেনস্কি আরো দাবি করেন, রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ‘৫৭ হাজারের বেশি শাহেদ-ধরনের আক্রমণাত্মক ড্রোন’ ব্যবহার করেছে, যা তাদের জনগণ, শহর এবং জ্বালানি ক্ষেত্রকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন কখনোই ইরানকে হুমকি দেয়নি। কিন্তু ইরানি শাসন পুতিনের সহযোগী হওয়ার পথ বেছে নিয়েছে।’
এর আগে, শনিবার ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানি সরকারের ‘নিজ দেশের জনগণ ও অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধে সহিংসতা’ এই হামলার পটভূমি তৈরি করেছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছিল, ‘বর্তমান ঘটনার মূল কারণ হলো ইরানি শাসনের সহিংসতা এবং স্বেচ্ছাচারিতা—বিশেষ করে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক হত্যা ও দমন-পীড়ন।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ